বিজ্ঞানীরা যে কোন রক্ত থেকে সার্বজনীন রক্ত তৈরি করতে পেরেছে

14
blood

গত বছর জুলাই মাসে আমেরিকান রেড ক্রস জমাকৃত রক্তের স্বল্পতা ঘোষণা করেছে। তারা প্রয়োজনমতো রক্তের অনুদান পাচ্ছিল না। প্রয়োজনীয় গ্রুপের রক্ত পাওয়া যাচ্ছিল না।

এখন, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সমস্যাটি মোকাবেলা করার উপায় খুঁজে পেয়েছেন। এখন যে কোন গ্রুপ রক্ত পরিবর্তন করে প্রয়োজনিয় রক্তের গ্রুপ এ পরিবর্তন করা যাবে।

গতবছর গবেষকরা আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটিতে একটি গবেষণা পত্র জমা দিয়েছিল। তার রেজাল্ট এ বছর পাবলিশ হয়েছে নেচার মাইক্রো বায়োলজি জার্নালে

রক্তের ধরন ভিন্ন হওয়ার কারণ হল রক্তে ভিন্ন ধরনের শর্করা থাকে। টাইপ A রক্তে এক ধরনের শর্করা থাকে এবং টাইপ B রক্তে অন্য ধরনের শর্করা থাকে এবং টাইপ AB দুই ধরনের শর্করা থাকে এবং O রক্তের গ্রুপ এ কোন শর্করা থাকে না।

যদি কোন ব্যক্তি ভিন্ন কোন রক্ত তার শরীরে প্রবেশ করায় তবে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সিস্টেম সেই রক্তের গ্রুপকে নষ্ট করে ফেলে।

উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তি যার শরীরে টাইপ A রক্ত রয়েছে , সে কখনো টাইপ B রক্ত তার শরীরের নিতে পারবে না। কারণ তার শরীর সেই রক্ত রিজেক্ট করে দিবে। কারণ শর্করার পরিমাণ খুবই কম।

টাইপ ও রক্তে যেহেতু কোন শর্করা নেই তাই সেই রক্ত যে কেউ গ্রহণ করতে পারে। তাই এই রক্তের গ্রুপকে সার্বজনীন রক্ত বলা হয় এবং এটির চাহিদা খুবই বেশি।

অতীতে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছে যে কিছু এনজাইম A, B এবং AB রক্তের গ্রুপ থেকে শর্করা সরিয়ে ফেলতে পেরেছে। এর ফলে সেই রক্ত সার্বজনীন রক্ত টাইপ O তে পরিণত হয়।

যাইহোক, গবেষক স্টিফেন উইথারস একটি প্রেস রিলিজে উল্লেখ করেছেন যে, তারা এখনও এমন একটি এনজাইম আবিষ্কার করেনি যা নিরাপদ এবং লাভজনক।

উইথারস এবং তার দল ইতোমধ্যে জানত যে পাকস্থলীর কোষের আস্তরণের রক্তের কোষগুলিতে পাওয়া একই শর্করা রয়েছে, এবং মানুষের মলগুলির মধ্যে ব্যাকটেরিয়া এনজাইমগুলি এই চিনিগুলিকে আয়ন থেকে বিদ্যুতের পচন থেকে বিচ্ছিন্ন করে।

এই জ্ঞান ব্যবহার করে, গবেষকরা এ এবং বি রক্তের শর্করা থেকে শর্করা আঁকতে পারে এমন এনজাইম বিচ্ছিন্ন করতে সক্ষম হন, যা তাদের পূর্বে আবিষ্কৃত এনজাইমের চেয়ে টাইপ ও 30 গুণ বেশি দক্ষতার সাথে রূপান্তর করে।

এখন বিজ্ঞানীরা তাদের এই গবেষণা বারবার আরো গভীর করে দেখছে এর কোনো ক্ষতিকর দিক আছে কিনা এবং লম্বা সময় মানুষের শরীরের কোন ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে কিনা, এসব এখন গবেষণা করছে।

এই সব অতিরিক্ত পরীক্ষা এখনও কিছু সময় নিতে পারে। কিন্তু উইথারস আশাবাদী যে তার দল সফলতা অর্জন করতে পারবে, যাতে ভবিষ্যতে রক্ত দান করার জন্য আমাদের যে কারো রক্তের দরকার হলে তা নিশ্চিত ভাবে গ্রহন করতে পারবে।

আরো পড়ুন -
 বিজ্ঞানীরা ক্যান্সার ও অন্যান্য রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ‘কৃত্রিম লিম্ফ নোড’ তৈরির চেষ্টা করছে 
 জেনে নিন যেভাবে মৃতপ্রায় ব্যাকটেরিয়া আবার জীবিত হয়ে উঠতে পারে – এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে