যেভাবে বিজ্ঞানীরা প্রথম ব্ল্যাক হোলের ছবি তুললো

56

ব্ল্যাক হোলের ছবি তোলা অত্যন্ত কষ্টকর। এই কাজটা কিছুদিন আগে পর্যন্ত অসম্ভব ছিলো। সুপারমাসিভ বা বিশাল ভরের ব্ল্যাক হোল গুলো গ্যালাক্সির মধ্যখানে থাকে, তাদের শক্তি অনুধাবন করা যেত তাদের আশেপাশের পরিবেশ থেকে। আশের পাশের নক্ষত্র গুলোকে যখন তারা শোষণ করে নিত, অথবা আশে পাশের চার্জড পার্টিকেল গুলো যখন ছোটাছোটি করত। তখন তাদের অস্তিত্য বোঝা যেত। পড়ন্ত বস্তু গুলো ব্ল্যাক হোলের আশে পাশে একটি ডিস্ক এর ন্যায় ঘিরে রাখত। কিন্ত ব্ল্যাক হোলের বিশাল ভরের কারনে যে গ্রাভিটির সৃষ্টি হতো তার জন্য আলো বের হতে পারতো না। এবং এর কারনে এই ব্ল্যাক হোল গুলো সবসময় অদৃশ্য হয়ে থাকত।

সৌভাগ্যবশত, একটি ব্ল্যাক হোল দেখার জন্য আরেকটি উপায় রয়েছে। সরাসরি ব্ল্যাক হোলের ইভেন্ট হরাইজন(পরিধি যার ভিতরে কিছুই দেখা যায় না বা পালাতে পারে না) এর দিকে না তাকিয়ে তার একৃশন ডিস্ক(এক ধরনের স্ট্রাকচার যা ডিফিউস ম্যাটারিয়াল ধারা তৈরি এবং যা বিশাল ভরের বস্তুকে কেন্দ্র করে ঘোরে। মধ্যের বস্তুটি সাধারনত নক্ষত্র হয়) এর দিকে এর ছবি ধারন করা। এই কাজটিই ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ, বা EHT, ২017 সালের এপ্রিল মাসে করে, তথ্য সংগ্রহ করে একটি অতিবিশাল ্বল্যাক হোলের প্রথম চিত্রটি ছাপিয়েছে, যা M 87 এর মধ্যে একটি।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানী আভি লোয়েব বলেছেন, “একটি ছবি থাকার চেয়ে আর কিছুই ভাল নেই।” যদিও বিজ্ঞানীরা গত অর্ধ শতাব্দী ধরে ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্যের পরোক্ষ প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন, কিন্তু কথায় আছে “Seeing is believing”।


প্রথম ব্ল্যাকহোলের ছবি তোলা অনেক কষ্ট সাধ্যের ব্যাপার। পৃথিবী থেকে তাদের দেখা খুব দুর্বধ্যো। M 87 এর ব্ল্যাকহোল এর ইমেজিং করার জন্য পৃথিবী জুড়ে অবজারবেটরির প্রয়োজন ছিল যা একটি পৃথিবীর আকারের রেডিও ডিশ এর সমান কাজ করে।

 

একটি ব্ল্যাক হোলের প্রথম ছবিটি পাওয়ার জন্য এমন রেডিও নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণকারীগুলিকে সংযোগ করে যা সারা পৃথিবী জুড়ে ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ নামে পরিচিত।

আমাদের সূর্যের ভর প্রায় 6.5 বিলিয়ন গুণ ওজন, M 87 এর ব্ল্যাক হোল কোন ছোট বিষয় নয়। কিন্তু ৫৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দুরের এর বিশালাকৃতির বস্তুটি পৃথিবী থেকে খুবই ছোটো দেখা যায়। এতটাই ছোটো যে একটি কমলাকে আকাশে নিয়ে গেলে মাটি থেকে একজন মানুষ যা দেখতে পায় তার মত।

শুধু মাত্র বিশাল রেসলুশনের একটি টেলিস্কোপ ধারাই এটি পর্যবেক্ষন করা সম্ভব। (তুলনা করার জন্য, হাবল স্পেস টেলিস্কোপ শুধুমাত্র 50,000 মাইক্রোকার্সেন্ডের মতো ছোট বস্তুগুলিকে পার্থক্য করতে পারে)।

একটি টেলিস্কোপের রেজোলিউশন তার ব্যাসের উপর নির্ভর করে: বৃহত্তর ডিশ, স্পষ্ট দৃশ্য – এবং সুপারমাসিভ ব্ল্যাক হোলের পরিষ্কার চিত্র পাওয়ার জন্য একটি গ্রহের আকারের রেডিও ডিশের প্রয়োজন হবে।

কিন্তু এটি বড় বড় এস্ট্রোনোমারদের কাছেও অনেক উচ্চাকাঙ্খি বিষয়। এর পরিবর্তে অনেক গুলো টেলিস্কোপ একত্র করে সব গুলোর ডাটা একসাথে করে কাজ করার জন্য একটি টেকনিক বের করা হলো। এর ফলে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করে কাজ শুরু করা হলো। ফলে সুপারমাসিভ ব্ল্যাক হোলের ছবি তোলার জন্য যে টেলিস্কোপ ব্যাবহার করা হলো তার মধ্যে একটি স্পেনে ও আরেকটি সাউথ পোল এ।

ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপটি ২০০৯ সালে মাত্র ৪ টি টেলিস্কোপ এর স্বমন্নয় ছিলো। পরে ২০১৭ সালে আরো ৪ টি টেলিস্কোপকে এর আওয়াতায় আনা হয়। এই নতুন টেলিস্কোপদের মধ্যে ALMA নামক একটি অবসার্ভেটরি ছিলো। যেটি প্রায় একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও বড়। ALMA অন্যান্য টেলিস্কোপের কম্বাইন্ড ডাটার থেকেও বেশি রেডিও ওয়েব কালেক্ট করে।

ওয়েস্টফোর্ডের এমআইটি এর হেস্ট্যাক অবজার্ভেটরির একজন জ্যোতিষক ভিনসেন্ট মাছ বলেছেন, “ALMA সবকিছুই বদলে দিয়েছে, “আপনি আগে যা সনাক্ত করতে কষ্ট করতেন, তা অনেক সহজেই ডিটেক্ট করতে পারত “

 

প্রতিটি অবজারভেটরি পর্যবেক্ষণের জন্য গবেষকরা তাদের বিশদ নির্ভুলতার সাথে তাদের তথ্যগুলির জন্য সময় রেকর্ড করা প্রয়োজন। এর জন্য, তারা হাইড্রোজেন মেসর পারমাণবিক ঘড়ি ব্যবহার করে, যা প্রতি 100 মিলিয়ন বছর ধরে প্রায় এক সেকেন্ড হারায়।

এই তথ্যটি তারপর এমআইটি হেস্টস্ট অব ওভারেটরী এবং মোন প্ল্যানক ইনস্টিটিউট ফর রেডিও অ্যাস্ট্রোনমিতে স্থানান্তরিত হয়, একটি বিশেষ ধরনের সুপারকম্পিউটারে প্রক্রিয়াকরণের জন্য, এটি কোরেলেটর নামে পরিচিত। কিন্তু প্রতিটি টেলিস্কোপ স্টেশন একটি অবজারভেটরি প্রচারের সময় শত শত টেরাবাইট তথ্য সংগ্রহ করে – ইন্টারনেটে পাঠানোর জন্য অনেক বেশি। তাই গবেষকরা পরবর্তী সেরা বিকল্পটি ব্যবহার করেন: স্ন্যেল মেইল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here