সর্বকালের সর্বসেরা সাত আবিষ্কার

137

আমাদের বসবাস আধুনিক বিংশ শতাব্দীতে। বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পদায়নের দ্বারা আমরা প্রযুক্তি নির্ভর আজকের পৃথিবী পেয়েছি। প্রাচীন পাথরের যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে বর্তমান ডিজিটাল যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন এর মধ্য দিয়ে মানবজাতির বিকাশ ঘটেছে। পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত লাখ লাখ আবিষ্কার হয়েছে। সেরা ৭ টি আবিষ্কার যা পৃথিবীর উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে তা আজকে তুলে ধরা হলো।

১। চাকা

প্রাচীন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ধরা হয় চাকা কে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে ৫০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে প্রাচীন মেসোপটেমিয়াতে চাকা আবিষ্কৃত হয়। শুরুতে কুমোরদের কাজে এটির ব্যবহার ছিলো।
খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ সহস্রাব্দ নাগাদ চাকার ব্যবহার ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে। ভারতীয় উপমহাদেশের সিন্ধু সভ্যতায় চাকার ব্যবহার শুরু হয় খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় সহস্রাব্দের দিকে। চীনে চাকার ব্যবহার দেখা যায় ১২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে, যখন চাকাযুক্ত গাড়ির প্রচলন হয়। তবে বারবিয়েরি-লো (২০০০) এর মতে আরো পূর্বে খ্রিষ্টপূর্ব ২য় সহস্রাব্দের দিকে চীনে চাকার প্রচলন ছিলো। সামগ্রিক ভাবে চাকার আবিষ্কার কেবল পরিবহন ব্যবস্থাই নয়, বরং প্রযুক্তির নানা দিকে নতুন নতুন যন্ত্র উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। চাকা ব্যবহার করে জল চক্র (পানি তোলার এবং পানি হতে শক্তি আহরণের চাকা), গিয়ার চাকা, চরকা, ইত্যাদি তৈরি করা হয়। সাম্প্রতিক কালের প্রপেলার, জেট ইঞ্জিন, জাইরোস্কোপ, এবং টারবাইন -এর সবই চাকারই পরিবর্তিত রূপ।


চাকা

 

২।বাষ্প ইঞ্জিন

বাষ্পচালিত ইঞ্জিনকে বাষ্পীয় ইঞ্জিন বলা হয়। টমাস সাভেরী সর্বপ্রথম ১৬৯৮ সালে বাষ্প ইঞ্জিন চালু করেন। তারপর ১৭৮১ সালে জেমস ওয়াট এর একটি উন্নত সংস্করন আনেন। আর যেটি বাষ্প ইঞ্জিন হিসেবে ধীরে ধীরে শিল্প বিপ্লব বয়ে আনে। ১৮ দশকে এই বাষ্প ইঞ্জিন পরিবহন, কৃষি এবং উৎপাদন কারখানাগুলোতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং এদিকগুলোতে এক বিরাট বিপ্লব ঘটে।

বাষ্প ইঞ্জিন

৩।কম্পাস

কম্পাস নৌপথে অথবা জরীপ কার্যে ব্যবহৃত প্রধান উপকরণ বা যন্ত্রাংশ যা কাঠামো নির্দেশক হিসেবে চৌম্বকীয় দণ্ডের সাহায্যে দিক নির্দেশনা করে। খ্রিষ্ট-পূর্ব ২০৬ সালের হ্যান রাজত্বকালে প্রাচীন চীনারা ভবিষ্যৎবাণী করার জন্যে প্রথম কম্পাস আবিষ্কার করেছিল বলে ধারনা করা হয়। বড় ধরনের চামচের ন্যায় চুম্বকজাতীয় পদার্থের সাহায্যে বর্গাকৃতি ব্রোঞ্জ প্লেটে এটিকে রাখা হয়েছিল।[ পরবর্তীতে ১০৪০-১০৪৪ সাল পর্যন্ত সং রাজত্বকালে সামরিকবাহিনীর মাধ্যমে নৌপথ পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করতো।[এছাড়াও, ১১১১-১১১৭ সাল পর্যন্ত নৌপথ নজরদারীতে এর প্রয়োগ লক্ষ করা যায়। জিপিএস প্রযুক্তি থাকার পরও অ্যানালগ নেভিগেশন এবং এই নেভিগেশন বিজ্ঞানকে এক নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই কম্পাস বিপ্লবী ভূমিকা রাখে।

 

কম্পাস

৪।কংক্রিট

অনেক প্রাচীন সভ্যতায় কংক্রিট ব্যবহার করা হয়েছে। কংক্রিটের প্রধান উপাদান হল সিমেন্ট, পাথর, বালি এবং পানি। বিভিন্ন কাজের ব্যবহার উপযোগী করতে এর সাথে রাসায়নিক মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। এই আবিস্কারটি বর্তমান পথিবীর গৃহ নির্মান শৈলীর এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কংক্রিট

 

৫।অটোমোবাইলস

অটোমোবাইল  বলতে সাধারনত  রাস্তায় চলাচলকারি যানবাহনকে  যেমন:  কার, জীপ, মোটরসাইকেল, বাস, ট্রাক, ইত্যাদিকে বুঝায়,যার নিজস্ব শক্তি উ্ৎপাদন কেন্দ্র বা ইন্জিন আছে। জার্মানির  নিকোলাস অগাস্ট অটো- ১৮৭৬সালে চার স্ট্রোক  ইঞ্জিন আবিস্কার করেন, যাকে অটো সাইকেল ইঞ্জিন বা পেট্রোল ইঞ্জিন বলে। বর্তমান সময়ে এই আধুনিক যানবাহন অর্থনৈতিক ব্যবস্হার সূচকে পরিণত হয়েছে।


অটোমোবাইলস

 

৬। বিদ্যুৎ

বিদ্যুৎ হল আমাদের জীবনের সবচাইতে মৌলিক একটি প্রয়োজন, এটি ছাড়া আমাদের জীবন-যাত্রা যেন থেমে যায়। বিদ্যুত এর আবিষ্কার এর পর থেকে পৃথিবী এক নতুন আলোকিত পথে হাটতে শুরু করেছিল; আজ সে দৌড়াচ্ছে এবং এই গতি বেড়েই চলেছে। পদার্থের মধ্যকার মুক্ত ইলেকট্রনসমূহ কোন নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত হওয়ার হারকে কারেন্ট বলে।

 

৭। ইন্টারনেট

আন্তর্জাল বা ইন্টারনেট হল সারা পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত, পরস্পরের সাথে সংযুক্ত অনেকগুলো কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সমষ্টি যা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এবং যেখানে আইপি বা ইন্টারনেট প্রটোকল নামের এক প্রামাণ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্যাটা আদান-প্রদান করা হয়। ১৯৬০-এর দশকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গবেষণা সংস্থা অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সি বা আরপা (ARPA) পরীক্ষামূলকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগারের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতিতে তৈরি করা এই নেটওয়ার্ক আরপানেট নামে পরিচিত ছিল। এতে প্রাথমিকভাবে যুক্ত ছিল। ইন্টারনেট ১৯৮৯ সালে আইএসপি দ্বারা সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ১৯৯০ এর মাঝামাঝি থেকে ১৯৯০ এর পরবর্তি সময়ের দিকে পশ্চিমাবিশ্বে ইন্টারনেট ব্যাপক ভাবে বিস্তৃত হতে থাকে।


ইন্টারনেট