হিগস বোসন কি?

মুল পার্টিকেল গুলো হিগস বোসনের কারনে ভর পায়

40
Higgs Boson

আপনি হিগস-বোসনের নাম শুনে থাকবেন। কিন্তু এটি কি? এবং পৃথিবীর কি হতো যদি হিগস-বোসন না থাকতো? সহজ কথায় হিগস-বোসন না থাকলে কোন পৃথিবী থাকত না।

1964 সালে ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস একটি পেপার লিখেন। সেখানে তিনি একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে কেন পারমাণবিক কণাগুলোর ভর থাকে।

এই মহাবিশ্বের সব কিছু পদার্থ দ্বারা তৈরি। এবং পদার্থগুলো এটম ধারা তৈরি।

এটম
পদার্থ এটম ধাঁরা তৈরি

এবং এই এটম গুলো নিউট্রন, প্রোটন এবং ইলেকট্রন দ্বারা গঠিত।

পার্টিকেলস

আবার এই পার্টিক্যাল গুলো আরো সাব-এটোমিক পার্টিক্যাল দ্বারা তৈরি। যেমন- কোয়ার্ক্স।

সাব এটোমিক পার্টিকেল

বিজ্ঞানীরা একটি স্ট্যান্ডার্ড মডেল তৈরি করেছেন এই সাব-এটোমিক পার্টিকেলের জন্য। যেখানে ব্যাখ্যা করা হয় যে এই সাব এটমিক পার্টিকেল গুলো কি ধরনের। এবং এরা একে অপরের সাথে কি ধরনের আচরণ করে।

স্টান্ডার্ড মডেল

স্ট্যান্ডার্ড মডেল ধারা অনেক কিছু ব্যাখ্যা করা হয় যেমন ইলেকট্রিসিটি, ম্যাগনেটিজম এবং রেডিও একটিভিটি।

কিন্তু এই স্ট্যান্ডার্ড মডেলে একটু সমস্যা ছিল। বিজ্ঞানীরা বলতে পারছিল না যে কিভাবে সাব এটমিক পার্টিকেল গুলো ভর পায়।

হিগস ফিল্ড

এটি ব্যাখ্যা করার জন্য হিগস ফিল্ড এর দরকার হয়। হিগস ফিল্ড হচ্ছে একটি এনার্জি ফিল্ড যা সম্পূর্ণ স্পেস জুড়ে রয়েছে। অর্থাৎ আমাদের চারপাশে হিগস ফিল্ড রয়েছে। এবং এই হিগস ফিল্ড আরেকটি এলিমেন্টারি পার্টিকেল ধারা তৈরি যা হিগস বোসন নামে পরিচিত।

ফোটন হিগস বোসনের সাথে কম ধাক্কা খাচ্ছে। যেখানে অন্য পার্টিকেল অনেক ধাক্কা খাচ্ছে।

সব সাব-এটমিক পার্টিকেল হিগস ফিল্ড এর সাথে ধাক্কা খায়। কিন্তু কিছু কিছু সাব-এটমিক পার্টিকেল যেমন- ফোটন, হিগস ফিল্ডের হিগস বোসন এর সাথে ইন্টারেকশন ঘটায় না অথবা ধাক্কা খায় না। এর ফলে এর মাস কম হয়। অর্থাৎ ভর কম হয়।

অন্যান্য পার্টিকেল যেমন – কোয়ার্ক্স এই ফিল্ডের সাথে অনেক ইন্টারেকশন ঘটায় বা ধাক্কা খায়। এর ফলে এর মাস বা ভর বেশি হয়।

এর এত গুরুত্ত্বের কারনে হিগস বোসন স্টান্ডার্ড মডেলের মধ্যে যায়গা পায়। এবং স্টান্ডার্ড মডেলের যায়গা পুর্ন করে।

This image has an empty alt attribute; its file name is The-Higgs-Boson-Simplified-Through-Animation-YouTube.mkv_20190609_234032.392-1024x575.jpg

এখন আপনি ভাবতে পারেন যে বিজ্ঞানীরা এতকিছু কিভাবে আবিষ্কার করে ফেলল। ১৯৬৪ সালে পিটার হিগস সহ আরো অনেক বিজ্ঞানী এই হিগস-বোসনের তত্ত্ব দিয়ে থাকেন। এই তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে লার্জ হ্যড্রন কলাইডার বা LHC তৈরি করা হয়।

লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার হচ্ছে অনেক বড় একটি রিং আকারের মেশিন। যা চার্জ পার্টিকেল এর বিম দুটো ভিন্ন দিকে নিক্ষেপ করে। যা প্রায় আলোর গতির কাছাকাছি পর্যন্ত স্পিড হয়। এবং একে অপরের সাথে ধাক্কা খায়।

এবং এই বিস্ফোরণের ফলে অনেক সাব এটমিক পার্টিকেল দেখা পাওয়া যায় এবং এর ফলে মাঝে মাঝে হিগস-বোসন দেখা পাওয়া যায়।

এবং 2012 সালের জুলাই 4 তারিখে বিজ্ঞানীরা প্রথম হিগস-বোসন খুঁজে পায়।

এখন আপনি বলতে পারেন যে এই হিগস-বোসন জেনে আমাদের কি লাভ হল। এটি আমাদের আমাদের জন্য কি উপকারে আসতে পারে।

অনেক বিজ্ঞানীরা বলছেন হিগস-বোসন জানার কারণে তারা ডার্ক মেটার সম্পর্কে আরো ধারণা পাবেন। অনেকের ধারণা এই যে এই মহাবিশ্বের প্রায় 23% ডার্ক ম্যাটার দ্বারা তৈরি। এবং অনেক বিজ্ঞানীরা বলছেন এই আবিষ্কারের কারণে আরো নতুন নতুন পার্টিকেল তৈরি করা যেতে পারে। যা আমাদের কাজে লাগতে পারে।

যাই হোক না কেন আমরা বেঁচে আছি এই হিগস ফিল্ড এর কারণে।

আরো পড়ুন - 
কেন সূর্যের বাইরে তাপমাত্রা পৃষ্ঠের তুলনায় গরম? 
এন্টি ম্যাটারঃ তরঙ্গ এবং কণা দুটোই